শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মশার উপদ্রবে ইতিমধ্যে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। মশার যন্ত্রণা সর্বত্র। এরই মধ্যে আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার উপদ্রব নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়েছেন একদল গবেষক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ঢাকায় মশার ঘনত্ব ও আগাম সতর্ক বার্তা নিয়ে কাজ করছেন তারা। প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে গবেষণা চালিয়েছেন এই গবেষক দল।

গবেষক দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকায় মশা জন্মানো স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে মশা সংগ্রহ করা হয়েছে প্রথমে, পরে সেটি ল্যাবে নিয়ে শনাক্ত করা হয়। কিউলেক্স মশার লার্ভার ক্ষেত্রে প্রতি ৫০০ এমএল পানিতে মশার লার্ভা সংখ্যা গণনা করে ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। গত এক সপ্তাহের জরিপে ঢাকার বেশির ভাগ কিউলেক্স মশার জন্মানোর স্থানে ঘনত্ব ২০০-এর ওপরে পাওয়া যায়। এছাড়া ড্রেন ও ডোবায় অগণিত ডিম দিয়েছে মশা। অনেক দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় মশা জন্মানোর স্থানগুলোতে পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল বেড়েছে। এই অর্গানিক ম্যাটরিয়ালগুলো কিউলেক্স মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় মশা জন্মানোর জন্য এটি উপযুক্ত সময়। এছাড়া ডিমগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হবে। অতি জরুরি ভিত্তিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশার জন্মানোর স্থানগুলোতে লার্ভিসাইড ছিটানো না হলে মার্চ মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে মশার উত্পাত।

মশার লার্ভার উপস্থিতি হিসাব করা হয় ব্রুটো ইনডেক্সের মাধ্যমে। জরিপে প্রতি ১০০ প্রজনন উেসর মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়, তাহলে সেটাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি’ বলা যায়। এই জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরীবাগ ও শাহবাগ এলাকায় মশার ব্রুটো ইনডেক্স ছিল সবচেয়ে বেশি ২৬ দশমিক ৬৭। এ ছাড়া লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুরে ১০, গুলশান-বনানীতে শূন্য, বাসাবো-খিলগাঁওয়ে ১৩ দশমিক ৩৩, শাখারীবাজার ও পাটুয়াটুলীতে ১৩ দশমিক ৩৩। ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত গুলশান-বনানী এবং লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুর এ দুটি অঞ্চলের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, গুলশানে ব্রুটো ইনডেক্স ২০ হয়েছে। লালমাটিয়ায় কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৬৭।

কবিরুল বাশার জানান, বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা শহরে রয়েছে ১৩ প্রজাতির। কিন্তু যে মশাটি আমাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিরক্তির কারণ সেটি হচ্ছে কিউলেক্স মশা। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই আমরা ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব পেয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি পেয়েছি কিউলেক্স মশা। বর্তমানে ঢাকা শহরের ১০০ শতাংশ মশার মধ্যে ৯৫ শতাংশ হচ্ছে কিউলেক্স মশা। ড্রেন, ডোবা এবং নর্দমার পানি চলন্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লার্ভা মারার কীটনাশক স্প্রে করা এখন জরুরি বলে তিনি জানান।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com